৯ মাসে ৬০০-এর বেশি ধর্ষণ: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বাড়ছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা
রাজধানীর ভাটারা থানার এক হতদরিদ্র পিতা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, “এলাকার এক খারাপ লোক ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েটাকে দিনদুপুরে ধর্ষণ করেছে। মেয়েটার অবস্থা এখন গুরুতর। আমি গরিব মানুষ, কিন্তু আমি বিচার চাই।”
এই শিশুটি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন। এটি কোনো একক ঘটনা নয়—সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৬৬৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৯৭ জনই শিশু। গড়ে প্রতিদিন দুইজনের বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, একই সময়ে ১৫ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০টির বেশি মামলা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, চাঁদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ এবং গাজীপুরে নাট্যকর্মীকে রিসোর্টে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এসব ঘটনার মধ্যে অন্যতম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ধর্ষণের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে। বিলম্বিত বিচার ও দুর্বল তদন্ত ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ।”
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৫২৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৬৬ জনই শিশু। ধর্ষণের পর ২৬ জনকে হত্যা এবং ৬ জন আত্মহত্যা করেছেন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (MSF)-এর সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগস্টে ৪৭টি ধর্ষণের ঘটনা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ৩টি ধর্ষণের পর হত্যা।
পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “সমাজে নানা কারণে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।”
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন দ্রুত বিচার, শক্তিশালী তদন্ত, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।












