শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

৯ মাসে ৬০০-এর বেশি ধর্ষণ: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বাড়ছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:২৪ পিএম
৯ মাসে ৬০০-এর বেশি ধর্ষণ: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বাড়ছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা

রাজধানীর ভাটারা থানার এক হতদরিদ্র পিতা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, “এলাকার এক খারাপ লোক ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েটাকে দিনদুপুরে ধর্ষণ করেছে। মেয়েটার অবস্থা এখন গুরুতর। আমি গরিব মানুষ, কিন্তু আমি বিচার চাই।”

এই শিশুটি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন। এটি কোনো একক ঘটনা নয়—সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৬৬৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৯৭ জনই শিশু। গড়ে প্রতিদিন দুইজনের বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, একই সময়ে ১৫ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০টির বেশি মামলা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, চাঁদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ এবং গাজীপুরে নাট্যকর্মীকে রিসোর্টে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এসব ঘটনার মধ্যে অন্যতম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ধর্ষণের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে। বিলম্বিত বিচার ও দুর্বল তদন্ত ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ।”

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৫২৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৬৬ জনই শিশু। ধর্ষণের পর ২৬ জনকে হত্যা এবং ৬ জন আত্মহত্যা করেছেন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (MSF)-এর সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগস্টে ৪৭টি ধর্ষণের ঘটনা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ৩টি ধর্ষণের পর হত্যা

পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “সমাজে নানা কারণে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।”

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন দ্রুত বিচার, শক্তিশালী তদন্ত, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ

“তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিবের স্পষ্ট বার্তা”

মোঃ রুবেল মিয়া প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২৯ পিএম
“তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিবের স্পষ্ট বার্তা”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশে ফিরতে বাধার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা বা আপত্তি নেই।

শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রেস সচিব লিখেন, “এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধিনিষেধ বা আপত্তি নেই।” তাঁর এই মন্তব্য আসে তারেক রহমানের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর, যেখানে তিনি বলেন যে, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

ওয়ান–ইলেভেনের পর ২০০৮ সালে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকেই তিনি সেখান থেকে দল পরিচালনা করছেন। গত বছর জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার সাজা বাতিল হলে দেশে ফেরার আলোচনা জোরদার হয়।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কারণে দলের ভেতরে তারেকের দ্রুত ফেরার আশা জাগলেও তিনি আজ সকালে লন্ডন থেকে দেওয়া পোস্টে জানান, মায়ের কাছে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়ন তাঁর একার সিদ্ধান্ত নয়। “রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছালেই দেশে ফেরার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে”— যোগ করেন তিনি।

এদিকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার প্রতি প্রধান উপদেষ্টা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেট কার পড়ে সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১০ পিএম
চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেট কার পড়ে সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরের নিমতলা এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি প্রাইভেট কার ছিটকে নিচে পড়ে এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বন্দর থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জানান, হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শোনার পর তিনি থানার ভেতর থেকে বের হয়ে দেখেন, একটি গাড়ি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পড়ে উল্টে আছে। গাড়ি থেকে দুজন যাত্রী বেরিয়ে আসেন—তাঁরা সামান্য আহত হয়েছেন। তবে নিচ দিয়ে যাওয়া এক সাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান বলেন, গাড়িটি যে স্থান দিয়ে নিচে পড়ে গেছে, সেখানে একটি বাঁক রয়েছে। অতিরিক্ত গতির কারণেই গাড়িটি রেলিং অতিক্রম করে নিচে পড়ে যায় বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। পরীক্ষামূলক চালুর পর থেকে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, চালকদের গতিসীমা না মানা ও বেপরোয়া গতি এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৬০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিসীমা এবং বাঁকগুলোতে ৪০ কিলোমিটার সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও অধিকাংশ গাড়ি তা মানছে না। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মোটরসাইকেল চলাচল করছে এক্সপ্রেসওয়েতে। কোথাও নেই গতি নিয়ন্ত্রণকারী ক্যামেরা বা যন্ত্র। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁক। এসব স্থানেও অধিকাংশ চালক গতি কমান না। অনেক সময় যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছবি তুলতেও দেখা যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

সুবর্ণচরে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা — তদন্তে নেমেছে পুলিশ

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে সড়কের ওপর এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০১ পিএম
নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে সড়কের ওপর এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা

 নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় প্রকাশ্যে এক মোটরসাইকেল আরোহীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির নাম সুব্রত চন্দ্র দাশ (৪২)। সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার চর জবলী গ্রামের পালোয়ান বাড়ির সামনে, আট কপালিয়া–পরিষ্কার বাজার সড়কে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত সুব্রত চন্দ্র দাশ উপজেলার চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর বজলুল করিম গ্রামের চিরু রঞ্জন দাশের ছেলে। খবর পেয়ে চর জব্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও কারা এতে জড়িত—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। নিহতের মরদেহ আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে ময়নাতদন্তের জন্য।