মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: ২১ জুলাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘শোক দিবস’ ঘোষণার দাবি
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারান। নিহত–আহতদের পরিবার আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দিনটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘শোক দিবস’ হিসেবে পালনের দাবি জানিয়েছে।
তাদের আরও দাবি—
-
নিহত সবাইকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া,
-
সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিচার,
-
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সরকারি হেলথ কার্ড প্রদান,
-
আহতদের পুনর্বাসন ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা,
-
নিহতদের কবর সংরক্ষণ,
-
এবং তাদের স্মরণে উত্তরায় একটি মসজিদ নির্মাণ।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “শুধু শিক্ষক বা পাইলট শহীদ হতে পারেন না। আমাদের সন্তানরাও ইউনিফর্ম পরা ছিল, তারাও শহীদের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।”
নিহত তাসমিয়া হকের বাবা নাজমুল হক জানান, অনেক আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক চরম শারীরিক কষ্টে ভুগছেন। কেউ হয়তো আর কখনো কর্মজীবনে ফিরতে পারবেন না।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কেউ তাদের খোঁজ নেননি। সরকারের সহযোগিতাও তারা পাননি। নিহত শিক্ষার্থী সামিউলের বাবা রেজাউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লাশের সঙ্গে শুধু একটি কপি পেয়েছি। এরপর থেকে আর কারও কোনো যোগাযোগ নেই।”
আহত শিক্ষার্থী জায়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত বলেন, অনেক শিশু গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে বা মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তিনি তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২১ জুলাইয়ের ওই দুর্ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ অন্তত ৩৪ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৭ জন ছিলেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী। আহত হন আরও অনেকে।








