এআই ব্যবহারে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ৫ গুণ বেড়েছে, বললেন ডুয়োলিঙ্গো সিইও
ভাষা শেখার প্ল্যাটফর্ম ডুয়োলিঙ্গো গত এপ্রিলে নিজেদের ‘এআই–ফার্স্ট’ প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করেছিল। তখন অনেকে ভেবেছিলেন, এতে হয়তো বড় আকারে কর্মী ছাঁটাই হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা।
প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইস ভন আহন জানালেন, এআই ব্যবহারের ফলে কর্মীদের কাজের গতি ও গুণমান চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে। একই সংখ্যক কর্মী দিয়েই এখন অনেক বেশি কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
কর্মীদের চাকরি রক্ষিত, নতুন নিয়োগও
ডুয়োলিঙ্গো এখন পর্যন্ত একজন পূর্ণকালীন কর্মীকেও ছাঁটাই করেনি। বরং এপ্রিলের পর থেকে নতুন কর্মী নিয়োগও দিয়েছে। তবে ধীরে ধীরে চুক্তিভিত্তিক কর্মী (কন্ট্রাক্টর) কমানো হচ্ছে।
লুইস ভন আহনের ভাষায়,
“আমাদের লক্ষ্য মানব কর্মীদের প্রতিস্থাপন নয়। বরং ছোট একটি টিম নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করা।”
এআই প্রকল্প ও নতুন ফিচার
ডুয়োলিঙ্গো ইতিমধ্যেই কয়েকটি এআইভিত্তিক ফিচার চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লিলি’ (Lily) নামের একটি এআই এজেন্ট, যা ভিডিও কলে ব্যবহারকারীদের ভাষা চর্চায় সাহায্য করে। এছাড়া দাবা শেখানোর পাঠও যুক্ত হয়েছে, যা প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল।
আর্থিক সাফল্য
এআই ব্যবহারের সুফল আর্থিক খাতেও পড়ছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডুয়োলিঙ্গোর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২.৭৩ বিলিয়ন ডলার। আগস্ট মাসে তাদের আয় প্রত্যাশার চেয়ে ১ বিলিয়ন ডলার বেশি হয়েছে।
এআই–এ চাকরি হারানোর আশঙ্কা
তবে প্রযুক্তি খাতের সব প্রতিষ্ঠান ডুয়োলিঙ্গোর মতো নয়। সেলসফোর্স ও ক্রাউডস্ট্রাইক–এর মতো কোম্পানিগুলো এআই ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও কর্মী ছাঁটাই করেছে।
এআই–সমর্থকেরা মনে করেন, এই প্রযুক্তি মানুষকে একঘেয়ে কাজ থেকে মুক্ত করে সৃজনশীল কাজে মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে এআই আসার পরই ছাঁটাই বেড়েছে।











