রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্যসহ শিক্ষকদের ওপর হামলা: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
পোষ্য কোটা ইস্যুতে সহ-উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বর্জন করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করছেন।
মানববন্ধনে তিন দফা দাবি জানানো হয়—
১. হামলায় জড়িত চিহ্নিত ছাত্রদের স্থায়ী বহিষ্কার,
২. যাঁদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে, তাঁদের সনদ বাতিল,
৩. রাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হলে তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল।
বক্তারা বলেন, কিছু সন্ত্রাসী ছাত্র নামধারী হয়ে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। যত দিন না জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে, তত দিন আন্দোলন চলবে।
ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)–এর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিক্ষকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যদি এ ঘটনার বিচার না হয়, ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, গত নয় মাসে অনেক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কোনো ফল আসেনি। এবার দোষীদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অধ্যাপক দিল-আরা হোসেন বলেন, ‘অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনের ওপর হামলাটি সুপরিকল্পিত ছিল। ছাত্র নামধারী এসব সন্ত্রাসীদের শাস্তি দিতেই হবে।’
এদিকে শাটডাউনের কারণে সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ক্যাম্পাস ফাঁকা, দোকানপাটও অধিকাংশই বন্ধ।
প্রশাসন জানিয়েছে, পোষ্য কোটা নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট জরুরি বৈঠকে কোটা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ও একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।











