ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রদলের ১১ অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ১১টি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও দায়িত্বশীলদের অবহেলায় নির্বাচনের সুষ্ঠুতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ছাত্রদল–সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম বলেন, জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে একটি বিশেষ মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। নির্বাচনের আগেই নানা অনিয়ম চোখে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ বিপুল বিজয় অর্জন করে। ভিপি–জিএস–এজিএসসহ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয়ী হয় তারা। অন্যদিকে, কোনো পদে জিততে পারেনি ছাত্রদল।
ছাত্রদলের ১১ অভিযোগ:
১. ভোটারদের আগেই স্বাক্ষর দিয়ে দেওয়া, জালিয়াতি ও ভোটার তালিকা গরমিল।
২. ব্যালট পেপারে ক্রমিক নম্বর না থাকা ও সরবরাহকৃত ব্যালটের সংখ্যা অস্বচ্ছ রাখা।
৩. অনিরাপদ ছাপাখানায় ব্যালট ছাপানো, নকল ব্যালট উদ্ধার।
৪. ভোট গণনায় প্রার্থী ও ভোটারদের না জানিয়ে একতরফা সফটওয়্যার যাচাই।
৫. প্রস্তাবিত পোলিং এজেন্ট বাদ দিয়ে রাতারাতি নতুন তালিকা প্রকাশ।
৬. সময়মতো এজেন্টদের আইডি কার্ড না দেওয়ায় অনেককে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া।
৭. ঘোষণার বাইরে অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র বসানো।
৮. আচরণবিধি সম্পর্কে অজ্ঞ পোলিং অফিসার নিয়োগ।
৯. বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্ল গাইডসের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা।
১০. ভোট গণনায় এজেন্টদের নিষ্ক্রিয় রাখা ও ফলাফলে অনিয়ম।
১১. অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, মার্কারপেনের অভাব ও নকল কালি ব্যবহার করে ভোট নষ্টের অভিযোগ।
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী বারবার অভিযোগ জানিয়েও সমাধান মেলেনি। বরং প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপণ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে ডাকসু নির্বাচন ইতিহাসে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।”








