ডাকসু–জাকুসতে ছাত্রশিবির জিতেছে, কিন্তু রাজনীতিতে কি হারলো তারা?
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু এই জয়ের মধ্যেই কিছু প্রশ্ন উঠে আসে—স্বল্পমেয়াদে জয় পেলেও, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির কি দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিতে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি নিয়েছে?
প্রথমেই বলা যায়, ছাত্রশিবির তাদের মূল নাম ব্যবহার করে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই এই জয় পুরোপুরি তাদের কৌশলের ফল বলাও যায় না।
ছাত্রশিবিরের ৩৬ দফা ইশতেহার মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান উন্নয়ন ও ছাত্রকল্যাণের ওপর কেন্দ্রিত ছিল। কিন্তু তাদের গঠনতন্ত্রের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি সরাসরি ইসলামের প্রচার, আদর্শ চরিত্রবান নাগরিক তৈরি ও ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে। ইশতেহারে এই বিষয়গুলো দেখা যায়নি।
নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী নির্বাচনে আলাদা ধরনের কৌশল নিয়েছে। একজন অমুসলিম নারী প্রার্থী এবং হিজাব না পরা শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ অনেকের কাছে চমক। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর সঙ্গে এমন শিক্ষার্থীদের ছবি সংবাদ সম্মেলনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পোশাক ও আচরণেও ছাত্রশিবিরের নিয়ম মেনে চলা কম দেখা গেছে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন সদস্যকে ইসলামের ফরজ ও ওয়াজিব যথাযথভাবে পালন করতে হবে, গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং সংগঠনের নীতি ভঙ্গ করা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত না হতে হবে। নির্বাচনে এমন বিষয়গুলোর উপেক্ষা করা প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনীতিতে অনেক দল নিজেদের নীতি-আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কৌশল অবলম্বন করে। সাধারণ রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও, ইসলামী দল বা আদর্শভিত্তিক দলগুলোর জন্য বিষয়টি জটিল।
বাংলাদেশে ধর্ম মানুষের জীবনে বিশেষ স্থান রাখে। কিন্তু প্রকৃত ইসলামিক জীবনবিধান মেনে চলার চেয়ে মানুষ এখনো কল্যাণমুখী ও মধ্যপন্থী রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ডাকসু ও জাকসুর ফলাফলে এটা স্পষ্ট। ছাত্রশিবির ভোটে জয় পেলেও, বাস্তব রাজনীতিতে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী তারা পুরোপুরি সফল হয়নি।
জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত কী ফলাফল করবে তা এখন বলা কঠিন। তবে এই দুই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের আলোকে ধরে ধরে, ভবিষ্যতে তারা কল্যাণমুখী প্রস্তাবনার ওপর বেশি জোর দেবে এবং কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি খুব বেশি দেওয়া হবে না।
শেষে বলা যায়, ডাকসু ও জাকসুতে জয় পেলেও ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কৌশল ও ভাবমূর্তিতে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিল নেই। গণমানুষ এখনো মধ্যপন্থী, কল্যাণমুখী রাজনীতি চায়; ধর্মভিত্তিক রাজনীতি তারা আগের মতোই প্রত্যাখ্যান করছে।
লেখক: জাহেদ উর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক








