বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

কেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৩১ এম
কেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধায় যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার দাবি নতুন কিছু নয়। জাতিসংঘের ১৪০টির বেশি দেশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখনো তা করেনি। এ অবস্থান শুধু ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকট নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও শান্তি প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি: দুই রাষ্ট্র সমাধান

ওয়াশিংটন শুরু থেকেই বলছে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি সরাসরি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র একতরফা স্বীকৃতির বিপক্ষে। তাদের মতে, এভাবে স্বীকৃতি দিলে শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে এবং উগ্রপন্থীরা সুযোগ নিতে পারে।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের অবস্থান

২০১২ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে ‘সদস্যবহির্ভূত পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৪ সালে জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদের প্রস্তাব ওঠে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়। পরে সাধারণ পরিষদ বলেছে, ফিলিস্তিন পূর্ণ সদস্যপদের যোগ্য।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক

ইসরায়েলের জন্মের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রধান মিত্র। সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ থেকে শুরু করে কূটনৈতিক সমর্থন—সবখানেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে। ফলে ফিলিস্তিনকে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেওয়া তাদের কাছে ইসরায়েলের প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ মনে হতে পারে।

ফিলিস্তিনি রাজনীতির বিভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, পশ্চিম তীরের ফাতাহ আর গাজার হামাসের মধ্যে বিভাজন থাকায় ফিলিস্তিন এখনো কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বলেছে, ইসরায়েলের ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল অবৈধ। তবুও রাজনৈতিক কারণে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

মার্কিন রাজনীতি

ফিলিস্তিন প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় বিষয়। রিপাবলিকানরা সাধারণত স্বীকৃতির বিপক্ষে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রগতিশীলরা পক্ষে। তবে নির্বাচনী রাজনীতি ও ইসরায়েলপন্থী লবির চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে রাখছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে। তবে এখনো তাদের অবস্থান মূলত ‘আলোচনা ও সমঝোতার’ ওপর নির্ভরশীল।

উপসংহার

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি না দিলেও আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও শান্তির স্বার্থে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা। বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতারও প্রতিফলন।

ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনেই বড় সিদ্ধান্ত: ৫২ আবেদন মঞ্জুর, একজনের প্রার্থীতা বাতিল।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনেই বড় সিদ্ধান্ত: ৫২ আবেদন মঞ্জুর, একজনের প্রার্থীতা বাতিল।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল শুনানির প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ সংক্রান্ত আপিল শুনানি শেষে ৫২টি আবেদন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর হয়ে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন ৫১ জন, আর বৈধ মনোনয়নের বিরুদ্ধে একটি আপিল মঞ্জুর হওয়ায় একজন প্রার্থী প্রার্থীতা হারিয়েছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণ কমিশনের উপস্থিতিতে এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম দিনে মোট ৭০টি আপিল শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল। আপিলকারী প্রার্থীরা এবং তাদের পক্ষে আইনজীবীরা কমিশনের সামনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে ১৫ জনের আপিল আবেদন খারিজ করা হয় এবং তিনজনের আপিলের শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে।

এদিন যে একজন প্রার্থী প্রার্থীতা হারিয়েছেন তিনি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ কে একরামুজ্জামান। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর হওয়ায় কমিশন তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়।

উল্লেখযোগ্য আপিলকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।

ইসি সূত্র জানায়, রোববার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি চলবে।

এদিকে সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের মধ্যে ৬৪৫ জন প্রার্থী আপিল দায়ের করেন। এসব আপিল শুনানি আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

প্রথম দিনের শুনানিতে যেসব দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপির একজন, জামায়াতে ইসলামীর একজন, জাতীয় পার্টির ১৩ জন, ইসলামী ঐক্যজোটের একজন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির দুজন, খেলাফত মজলিসের পাঁচজন, ইসলামী আন্দোলনের চারজন, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের একজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন, জাগপার দুজন, ইসলামিক ফ্রন্টের একজন, এবি পার্টির একজন, বাসদের দুজন এবং ইনসিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের একজন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ জন তাদের প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন।

“তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিবের স্পষ্ট বার্তা”

মোঃ রুবেল মিয়া প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২৯ পিএম
“তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিবের স্পষ্ট বার্তা”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশে ফিরতে বাধার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা বা আপত্তি নেই।

শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রেস সচিব লিখেন, “এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধিনিষেধ বা আপত্তি নেই।” তাঁর এই মন্তব্য আসে তারেক রহমানের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর, যেখানে তিনি বলেন যে, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

ওয়ান–ইলেভেনের পর ২০০৮ সালে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকেই তিনি সেখান থেকে দল পরিচালনা করছেন। গত বছর জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার সাজা বাতিল হলে দেশে ফেরার আলোচনা জোরদার হয়।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কারণে দলের ভেতরে তারেকের দ্রুত ফেরার আশা জাগলেও তিনি আজ সকালে লন্ডন থেকে দেওয়া পোস্টে জানান, মায়ের কাছে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়ন তাঁর একার সিদ্ধান্ত নয়। “রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছালেই দেশে ফেরার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে”— যোগ করেন তিনি।

এদিকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার প্রতি প্রধান উপদেষ্টা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেট কার পড়ে সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১০ পিএম
চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেট কার পড়ে সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরের নিমতলা এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি প্রাইভেট কার ছিটকে নিচে পড়ে এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বন্দর থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জানান, হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শোনার পর তিনি থানার ভেতর থেকে বের হয়ে দেখেন, একটি গাড়ি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পড়ে উল্টে আছে। গাড়ি থেকে দুজন যাত্রী বেরিয়ে আসেন—তাঁরা সামান্য আহত হয়েছেন। তবে নিচ দিয়ে যাওয়া এক সাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান বলেন, গাড়িটি যে স্থান দিয়ে নিচে পড়ে গেছে, সেখানে একটি বাঁক রয়েছে। অতিরিক্ত গতির কারণেই গাড়িটি রেলিং অতিক্রম করে নিচে পড়ে যায় বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। পরীক্ষামূলক চালুর পর থেকে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, চালকদের গতিসীমা না মানা ও বেপরোয়া গতি এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৬০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিসীমা এবং বাঁকগুলোতে ৪০ কিলোমিটার সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও অধিকাংশ গাড়ি তা মানছে না। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মোটরসাইকেল চলাচল করছে এক্সপ্রেসওয়েতে। কোথাও নেই গতি নিয়ন্ত্রণকারী ক্যামেরা বা যন্ত্র। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁক। এসব স্থানেও অধিকাংশ চালক গতি কমান না। অনেক সময় যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছবি তুলতেও দেখা যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।