কেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধায় যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার দাবি নতুন কিছু নয়। জাতিসংঘের ১৪০টির বেশি দেশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখনো তা করেনি। এ অবস্থান শুধু ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকট নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও শান্তি প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি: দুই রাষ্ট্র সমাধান
ওয়াশিংটন শুরু থেকেই বলছে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি সরাসরি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র একতরফা স্বীকৃতির বিপক্ষে। তাদের মতে, এভাবে স্বীকৃতি দিলে শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে এবং উগ্রপন্থীরা সুযোগ নিতে পারে।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের অবস্থান
২০১২ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে ‘সদস্যবহির্ভূত পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৪ সালে জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদের প্রস্তাব ওঠে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়। পরে সাধারণ পরিষদ বলেছে, ফিলিস্তিন পূর্ণ সদস্যপদের যোগ্য।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক
ইসরায়েলের জন্মের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রধান মিত্র। সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ থেকে শুরু করে কূটনৈতিক সমর্থন—সবখানেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে। ফলে ফিলিস্তিনকে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেওয়া তাদের কাছে ইসরায়েলের প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ মনে হতে পারে।
ফিলিস্তিনি রাজনীতির বিভাজন
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, পশ্চিম তীরের ফাতাহ আর গাজার হামাসের মধ্যে বিভাজন থাকায় ফিলিস্তিন এখনো কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
আন্তর্জাতিক আদালতের রায়
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বলেছে, ইসরায়েলের ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল অবৈধ। তবুও রাজনৈতিক কারণে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।
মার্কিন রাজনীতি
ফিলিস্তিন প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় বিষয়। রিপাবলিকানরা সাধারণত স্বীকৃতির বিপক্ষে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রগতিশীলরা পক্ষে। তবে নির্বাচনী রাজনীতি ও ইসরায়েলপন্থী লবির চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে রাখছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে। তবে এখনো তাদের অবস্থান মূলত ‘আলোচনা ও সমঝোতার’ ওপর নির্ভরশীল।
উপসংহার
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি না দিলেও আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও শান্তির স্বার্থে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা। বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতারও প্রতিফলন।










