‘কুলি’: রজনীকান্ত–লোকেশের জুটি প্রত্যাশা মেটাল না
তামিল সিনেমা মুক্তির দিন মানেই উৎসব। অফিস থেকে ছুটি, স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে দর্শক ছুটে যায় হলে। রজনীকান্তের সিনেমা মানেই সেখানে বাড়তি উন্মাদনা। তবে কয়েক বছর ধরে তাঁর আগের সেই জাদু যেন কিছুটা ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। ‘জেলার’ দিয়ে তিনি আবার দর্শক-সমালোচকের মন জয় করেছিলেন। তাই লোকেশ কঙ্গরাজের সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি ‘কুলি’ নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হলো?
এক নজরে
-
সিনেমা: কুলি
-
ধরন: অ্যাকশন থ্রিলার
-
পরিচালনা: লোকেশ কঙ্গরাজ
-
অভিনয়: রজনীকান্ত, নাগার্জুনা, উপেন্দ্র, সৌবিন শাহির, সত্যরাজ, শ্রুতি হাসান, আমির খান
-
স্ট্রিমিং: অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও
-
দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট
গল্পের সংক্ষেপ
গল্প শুরু হয় রজনীকান্ত অভিনীত দেবার পুরোনো বন্ধু রাজশেখরের (সত্যরাজ) হত্যাকে ঘিরে। রহস্য উদঘাটনে নেমে পড়েন দেবা, সঙ্গে রাজশেখরের মেয়ে প্রীতি (শ্রুতি হাসান)। তদন্ত করতে গিয়ে সামনে আসে দয়াল (সৌবিন শাহির) আর তাঁর কর্তা সাইমন (নাগার্জুনা)। এখান থেকেই দেবার অতীত এবং প্রতিশোধের গল্পে প্রবেশ করে সিনেমা।
নির্মাণ ও দুর্বলতা
লোকেশ কঙ্গরাজ ‘কাইথি’, ‘বিক্রম’, ‘লিও’-এর মতো ছবিতে ভক্তদের রোমাঞ্চ দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তাঁর ছন্দ বেশ অনুমিত হয়ে গেছে। বারবার একই ধরনের টুইস্ট, সাবপ্লট আর বেশি চরিত্র যোগ করে তিনি ‘কুলি’কে জটিল করে তুলেছেন। দর্শকের কাছে প্রতি ২০ মিনিটে বড় কোনো চমক দেওয়ার চেষ্টা বরং ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে।
অ্যাকশনের বদলে বরং রজনীকান্তের হালকা-ফুলকা দৃশ্যগুলোই বেশি উপভোগ্য। ৭৪ বছর বয়সেও তাঁর স্টাইল—ভ্রুকুটি, সিগারেট ঘোরানো বা হালকা হাসি—পর্দায় দর্শক মাতিয়ে রাখে। তবে গল্পের গতি আর চরিত্রের অসংলগ্নতা সিনেমাটিকে টেনে ধরেছে। শেষের দিকে আমির খানের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিও হতাশ করেছে ভক্তদের।
উজ্জ্বল দিক
গিরিশ গঙ্গাধরনের ক্যামেরা ছবিকে দিয়েছে তীব্রতা। আর অনিরুদ্ধের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি এখন দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম ভরসার নাম। তাঁর সুরই ছবির নীরস জায়গাগুলোতেও প্রাণ ফিরিয়েছে।
চূড়ান্ত মূল্যায়ন
‘কুলি’ রজনীকান্তের তারকামাত্রায় ভক্তদের মাতালেও সিনেমা হিসেবে প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি। লোকেশ কঙ্গরাজের কাছে দর্শকের আশা ছিল আরও বেশি। ফলে ভক্তরা খুশি হলেও সিনেমা সমালোচকদের জন্য এটি কিছুটা হতাশার।











