চাকসু নির্বাচনে ভিপি–জিএস পদে নারী প্রার্থী একমাত্র তাসনীম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। কিন্তু সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এই দুই শীর্ষ পদে নারী প্রার্থী প্রায় অনুপস্থিত। কেবল একটি প্যানেলই জিএস পদে একজন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী তাসনীম জাহান শ্রাবণ। এই জোটটি গঠিত হয়েছে স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি (স্যাড) ও ছাত্র ফেডারেশনের সমন্বয়ে।
অন্য ৯টি প্যানেলে কেন নারী প্রার্থী রাখা হয়নি—এ প্রশ্নে নেতারা বলেছেন, প্রতিযোগিতায় নারীরা পিছিয়ে পড়েন, জেতার সম্ভাবনা কম এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে তাদের প্রার্থী করা হয়নি। তবে অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মনে করছেন, আসল সমস্যা হলো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি এবং নারীকে সব সময় পেছনে রাখার প্রবণতা।
তাসনীম জাহান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নারী শিক্ষার্থীদের জন্য রাজনীতিতে নিরাপদ নয়। এখানে নিয়মিত বুলিং, শেমিং ও মোরাল পুলিশিংয়ের শিকার হতে হয়। এ কারণে অনেক ছাত্রী রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান না।’
নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশরেকা অদিতি হক বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আগেও নারীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এসেছে। এগুলো নারীদের ভয় দেখানোর কৌশল। তাই শীর্ষ পদে নারীদের উৎসাহ দিয়ে আনা উচিত ছিল।’
আগামী ১২ অক্টোবর সপ্তম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২৮টি পদের মধ্যে নির্বাচিত হবেন ২৬ জন। সভাপতি হবেন উপাচার্য পদাধিকারবলে, আর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে একজন শিক্ষককে মনোনীত করা হবে।
এবারের নির্বাচনে মোট ২৬০ প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন মাত্র ৩৭ জন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, আন্দোলন–সংগ্রামে নারীরা সব সময় সামনে থাকলেও শীর্ষ পদে তাঁদের অনুপস্থিতি হতাশাজনক।








