কুষ্টিয়ায় চিরনিদ্রায় ফরিদা পারভীন, শেষ ইচ্ছায় মেনে নিলেন পরিবার
বাংলার লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন।
শিল্পীর মৃত্যুর পর দাফনের বিষয়ে স্বামী ও সন্তানদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। স্বামী, খ্যাতিমান বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম চাইছিলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ফরিদা পারভীনকে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হোক। কিন্তু ছেলে এম আই নাহিল ও মেয়ে জিহান ফারিয়ার দাবি ছিল, তাঁদের মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে কুষ্টিয়ায় বাবা–মায়ের কবরের পাশে দাফন করতে হবে।
এ নিয়ে হাসপাতালে রাতেই পরিবারের ভেতরে আলোচনা হয়। অবশেষে শিল্পীর সন্তানদের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকায় রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে কুষ্টিয়ায় নিয়ে সমাহিত করা হবে ফরিদা পারভীনকে।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান এই বরেণ্য শিল্পীকে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কুষ্টিয়ায়। বাদ মাগরিব সেখানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
বাংলার সংগীত ভুবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে। তাঁর কণ্ঠে লালনগীতি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মোহিত করেছে। শেষ পর্যন্ত নিজের মনের ইচ্ছামতোই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি কুষ্টিয়ার মাটিতে, বাবা-মায়ের কবরের পাশে।











