চার পরীক্ষাতেই প্রথম, উমাইর আফিফ এখন অনুপ্রেরণার নাম
মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা অনেকেই একে ‘মহাযুদ্ধ’ বলে থাকেন। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় ভর্তির পর, যখন একে একে পাড়ি দিতে হয় চারটি পেশাগত পরীক্ষা (প্রফ)। এই চার পরীক্ষার প্রতিটিতেই প্রথম হয়ে অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন চট্টগ্রামের উমাইর আফিফ।
শিক্ষাজীবনের শুরু
আফিফ তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। ছোটবেলায় প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও মায়ের ইচ্ছায় তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। জাতীয় মেধাতালিকায় ৫২তম হয়ে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে।
তাঁর বড় বোন মারজান জামিলা ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রী। বোন ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় শুরুটা সহজ হলেও পড়াশোনার চাপ ছিল যথেষ্ট। তবে আফিফ পড়াশোনা করতেন বুঝে, মুখস্থ করে নয়। বিষয়টা বোঝা তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একাডেমিক পড়ার বাইরেও আগ্রহ
ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি তিনি নন-ফিকশন বই পড়তেন, করোনার সময় শিখেছিলেন ভিডিও এডিটিং। ইসলামি কোর্স করেছেন, সময় পেলেই ভ্রমণ করেছেন দেশ–বিদেশে।
বড় মোড়
শেষ বর্ষে তিনি যোগ দেন স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনে, যেখানে ছিলেন সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য। এই দায়িত্ব পালনের ফাঁকেই প্রস্তুতি নেন চূড়ান্ত পরীক্ষার। ফলাফলও আসে দারুণ—সব পরীক্ষাতেই প্রথম। তবে তিনি মনে করেন, “শুধু প্রথম হওয়াই আসল নয়, সহপাঠীদের প্রতি সহমর্মী হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।”
অনুপ্রেরণা
আফিফের পরিবারের অনেকে চিকিৎসক। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন বড় চাচি, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার—যিনি দেশের প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একজন।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
আফিফ এখন শিক্ষানবিশি করছেন। নিউরোসায়েন্স বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ থাকলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি চান, দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে আরও ইতিবাচক ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে।











