ডাকসু নির্বাচন ও তরুণদের নতুন ভাবনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে অনেকদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। ভোটার সংখ্যা সীমিত হলেও জাতীয় রাজনীতির মতোই এটি ছিল সবার নজরে।
মঙ্গলবার নির্বাচন শেষে ফলাফল প্রকাশের পর অনেকেই অবাক হয়েছেন, আবার কেউ এটিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। সকালবেলা চায়ের আড্ডা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার মূল বিষয় ছিল ডাকসু।
ইতিহাসে ফিরে দেখা
১৯৭০ সালে প্রথম ডাকসু নির্বাচন হয়। তখন ছাত্রলীগ জেতে। পরে ছাত্ররাজনীতির নানা বিভাজন ও দ্বন্দ্বে পরিস্থিতি বদলায়। কখনো কখনো ভোটের সময় সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—ডাকসুর ইতিহাসে সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন কখনো বড় জয় পায়নি।
গণতন্ত্রের দুই নেত্রী ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘদিন ডাকসু নির্বাচনই হয়নি।
এবারের নির্বাচন
অনেক বছর পর অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এ ফলাফল অনেককে বিস্মিত করেছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল—এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শিবিরের বিজয় পুরোনো প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবোধক হয়ে উঠেছে।
তবে যারা এবার ভোট দিয়েছেন, তারা একাত্তর বা নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সময় জন্মাননি। তাঁরা দেখেছেন শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসন আর খালেদা জিয়ার বিরোধিতা। তাই তাঁদের রাজনৈতিক মানসিকতা আলাদা হওয়াটা স্বাভাবিক। তরুণ ভোটাররা হয়তো প্রচলিত ধারার রাজনীতির বাইরে নতুন কিছু খুঁজছেন।
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনে যে প্রবণতা দেখা গেল, সেটি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কয়েক মাস পর জাতীয় নির্বাচন। তাই ডাকসুর ফলাফলকে অনেকেই বড় রিহার্সাল হিসেবে দেখছেন।
তরুণ ভোটাররা অতীত নিয়ে নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চান। তারা চায় স্বচ্ছ রাজনীতি, নতুন নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিপূজামুক্ত পরিবেশ। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এ বিষয়টি বিবেচনায় না নেয়, তবে জাতীয় নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে।








