ইসরায়েলের হামলার আগে কাতারকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি? ট্রাম্প ও দোহার বিবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েল গাজায় হামলা চালানোর আগে কাতারের কর্মকর্তাদের খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাতার এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
গত মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহার আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে হোয়াইট হাউস এই বিবৃতি দিয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য ছিল হামাসকে লক্ষ্য করা, যদিও ঘটনায় দোহার সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশে একতরফা হামলা কোনোভাবেই আমাদের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে না। ট্রাম্প বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে হামলার আগে কাতারকে সতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।”
কিন্তু কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা বলেছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি জানান, হামলা শুরুর ১০ মিনিট পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফোন আসে। তিনি এটিকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
হামাস জানিয়েছে, হামলায় তাদের পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন, তবে মূল আলোচক দল নিরাপদে রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন।
ট্রাম্প পরে কাতারকে আশ্বস্ত করেছেন, এমন ঘটনা আর হবে না। তিনি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “হামলার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুরই। এটি আমার সিদ্ধান্ত ছিল না।”
কাতারের আমিরি দিওয়ানও জানিয়েছে, আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কাতার এটিকে তার সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা কমতে পারে। কাতারের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্ররাই যদি এমন হামলার শিকার হয়, তাহলে অন্য আরব দেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।










