নুরাল পাগলার দরবারে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার আরও ২ জন, ক্ষয়ক্ষতির দাবি দেড় কোটি টাকা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা ও রাসেল মোল্লা (২৭) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এ দুজনকে আটক করা হয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজীপাড়ার শান্ত কাজী (১৯) এবং ফরিদপুরের সালথার ঘটরকান্দা গ্রামের মোহাম্মদ আনিছুর রহমান (৩০)। শান্তকে নিজ এলাকা থেকে রাত সোয়া ১০টার দিকে এবং আনিছুরকে রাত সোয়া ১১টার দিকে জামতলাহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে নিহত রাসেলের বাবা ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলা করেন। মামলায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় দরবারে হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়।
গোয়ালন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, আজাদের মামলায় মঙ্গলবার রাতে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার রাতে মানিকগঞ্জ থেকে মুফতি আবদুল লতিফ (৩৫) এবং গোয়ালন্দের অভি মণ্ডল ওরফে রঞ্জু (২৯)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আবদুল লতিফ স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। পরে আদালতে তোলা হলে তিনি হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
আজাদ মোল্লা জানান, হামলার সময় তাঁর ছেলে রাসেল মোল্লাকে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকা
আজাদ মোল্লার দাবি, হামলাকারীরা দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এর মধ্যে ভক্তদের দেওয়া ৪০ লাখ টাকা, প্রায় ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং আরও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়েছে।











