স্পিনের রাজ্যে পেসার ফারুকি: আফগানদের নতুন ভরসা
আফগানিস্তান মানেই স্পিন বোলারের দেশ। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, মুজিব উর রেহমান—একজন নয়, একাধিক বিশ্বসেরা স্পিনার আছে তাদের দলে। কিন্তু সেই দলের মধ্যেই এক তরুণ ভিন্ন স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি ফাস্ট বোলার হতে চেয়েছিলেন। নাম তার ফজলহক ফারুকি।
কিশোর বয়সে পেসার হওয়ার স্বপ্ন দেখে বন্ধুরা তাঁকে টিটকারি দিত। তখনকার ধারণা ছিল—আফগান ক্রিকেটার মানেই স্পিনার, আর বিদেশি লিগে খেলার সুযোগও নাকি শুধু স্পিনারদের জন্যই। কিন্তু ফারুকি সে ধারণা ভেঙে দিয়েছেন।
এখন তিনি আইপিএল, বিগ ব্যাশ, সিপিএল, পিএসএলসহ বিশ্বের বড় বড় লিগে খেলা একজন পরিচিত মুখ। আজ শুরু হওয়া এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের নতুন বলে সবচেয়ে বড় ভরসাই হচ্ছেন এই বাঁহাতি পেসার।
ফারুকির গতি হয়তো ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার নয়, উচ্চতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু তাঁর বড় শক্তি—বল দুই দিকেই সুইং করাতে পারেন। এই সুইং দিয়েই তিনি ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে ছিলেন যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৬.৩১।
এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪৭ ম্যাচ খেলে ৫৯ উইকেট নিয়েছেন ফারুকি। এর মধ্যে ৩৪ উইকেট এসেছে পাওয়ার প্লেতে। এই সাফল্যই আফগান স্পিনারদের জন্য মঞ্চ তৈরি করে দেয়।
তবে এখানে আসার পথটা সহজ ছিল না। উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের বাগলান শহরে জন্ম ফারুকির। ছোটবেলায় বিদ্যুৎ ছিল না নিয়মিত, টেলিভিশনে ক্রিকেট দেখার সুযোগও ছিল খুব সীমিত। অনেক সময় জানালা দিয়ে উঁকি মেরে ম্যাচ দেখতে হতো, তাও বারবার তাড়িয়ে দেওয়া হতো। তখন শুধু স্বপ্ন দেখতেন—একদিন নিশ্চিন্তে টিভিতে ক্রিকেট দেখবেন। আজ সেই ছেলেই বিশ্বজুড়ে আলোচিত তারকা।
শুরুতে তাঁর গ্রামে ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবল বেশি জনপ্রিয় ছিল। ব্যাট-বল কেনার সামর্থ্যও ছিল না। পুরোনো টেনিস বল দিয়েই খেলতেন। পরে বোর্ড একাডেমি খোলার পরই হাতে পান আসল ব্যাট-বল, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর যাত্রা।
আজ আফগান দলে তিনি শুধু একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নন, বরং দেশের প্রথম ফাস্ট বোলিং আইকন। তাঁর স্বপ্ন—আগামী প্রজন্ম যেন শুধু স্পিনার নয়, পেসার হওয়ারও স্বপ্ন দেখে।
এশিয়া কাপে কেমন করবেন তিনি? সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে আফগান ভক্তদের আশা, নতুন বলে ফারুকিই এনে দেবেন সাফল্য।











