প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬ । ৮:২০ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও সাংবাদিকদের জড়িয়ে পাল্টা অভিযোগ

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার

মণিরামপুরের চাঞ্চল্যকর ‘দুলাভাই-শ্যালিকা’ কাণ্ড ঘিরে উত্তেজনা থামছেই না। শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগের পর এবার সেই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ডিবিসি টেলিভিশনের যশোর প্রতিনিধি এস এম এম সাকিরুল কবীর রিটন। চিকিৎসক রাফসান জানির বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার মানহানির মামলা করেছেন তিনি।গত মঙ্গলবার যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রাফসান জানির বিরুদ্ধে তার শ্যালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে তার দুলাভাই তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী আইনি ব্যবস্থা নিলে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি একটি শেল্টার হোমে রয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষিতে চিকিৎসক রাফসান জানি যশোর প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ধর্ষণের অভিযোগটি সাজানো এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনেন। রাফসান জানির দাবি অনুযায়ী, এশিয়ান টিভির অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এই অভিযোগের তালিকায় ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক রিটনের নামও উল্লেখ করা হয়।

ডাক্তার রাফসান জানির করা এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক সাকিরুল কবীর রিটন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তাকে মূলত রাফসান জানির পক্ষ থেকেই বক্তব্য নেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানে কোনো প্রকার চাঁদা দাবি বা অবৈধ লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তার পেশাগত ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্যমান প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

পুরো ঘটনাটি এখন ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। একদিকে শ্যালিকার দায়ের করা মূল ধর্ষণ মামলা, অন্যদিকে চিকিৎসকের তোলা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সর্বশেষ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের আইনি লড়াই। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন, ধর্ষণের মতো একটি স্পর্শকাতর ফৌজদারি অপরাধ তদন্তাধীন থাকাবস্থায় অভিযুক্ত চিকিৎসক কীভাবে জনসমক্ষে বিচরণ করছেন এবং কেন সাংবাদিকদের সঙ্গে এই বিরোধের সৃষ্টি হলো?বর্তমানে বিষয়টি পুলিশি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ।

সম্পাদকঃ মোঃ রুবেল মিয়া, প্রকাশকঃ মোঃ সুহেল রানা, নির্বাহী সম্পাদকঃ সাইফুল ইসলাম সজীব, সার্বিক সহযোগিতায়ঃ মোঃ রুবেল হাসান (ওমান)

প্রিন্ট করুন