যশোরের খাজুরা এলাকায় জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে স্থানীয় ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। সরকারি বিধিনিষেধ ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খাজুরা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল আরোহী এবং কৃষকদের কাছে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকেই ফিলিং স্টেশনটিতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতি মোটরসাইকেল আরোহী এবং কৃষি কাজের জন্য আসা প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা সমমূল্যের পেট্রোল বা ডিজেল ক্রয় করতে পারবেন। মূলত তেলের মজুদ ধরে রাখা এবং সবার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তেল সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই পাম্প এলাকায় ভিড় বাড়তে থাকায় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করছেন।
চলমান সেচ মৌসুমের কারণে ডিজেলের চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের দাবি, ৩০০ টাকার ডিজেলে বড় এলাকা সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট রোধে এই মুহূর্তে জনপ্রতি বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। তেল সরবরাহ বৃদ্ধিপেত থাকলে পুনরায় স্বাভাবিক বিক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই রেশনিং ব্যবস্থা এবং পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার